রোজার মাসের ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব সমূহ - মুসলমান হিসেবে জানা জরুরী

রোজার মাসের ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব সমূহ - মুসলমান হিসেবে জানা জরুরী কারণ এ রমজান মাস মুসলিম উম্মার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পবিত্র কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছিল। এজন্য রমজান মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব অনেক বেশি।

রোজার মাসের ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব সমূহ - মুসলমান হিসেবে জানা জরুরী

রোজার মাসে বেশ কিছু ফরজ, সুন্নত ও ওয়াজিব আমল রয়েছে। প্রত্যেক মুসলমানের এই আমলগুলো সম্পর্কে জানা এবং ঈমানের সাথে তা পালন করা অত্যন্ত জরুরী। কোরআন ও হাদিসের আলোকে রোজার মাসের ফরজ, সুন্নত ও ওয়াজিব আমল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

রমজান একটি ফজিলত পূর্ণ মাস

রমজান মাস হল রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। কুরআন ও হাদিসের আলোকে শরীয়া মোতাবেক আমল করতে পারলে মহান আল্লাহ তা'আলার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভ করা যাবে। তাছাড়াও রমজান মাসের সিয়াম সাধনার নিয়ম নীতি, বিধি বিধান ইসলামিক মাসালা অনুযায়ী আমল করলে রমজানের শিক্ষা এবং আদর্শ অর্জন করা যায়। রমজান মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক বেশি।


রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "রমজান এলে জান্নাতে গজল গুলো খুলে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজা গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়" - (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
এছাড়া রমজান মাসে আমাদের পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে যার গুরুত্ব পুরো উম্মার কাছে অনেক বেশি। রমজান মাস হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস, গুনাহ মাফের মাস। রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতের মধ্যে রয়েছে মহিমান্বিত কদরের রাত।
"লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম" - (সূরা আল কদর)। কদরের এই রাতে ইবাদত করা হাজার মাসের ইবাদত করার চাইতেও মহান আল্লাহ তাআলার কাছে উত্তম। রমজান মাসের রোজা মানে শুধু না খেয়ে থেকে সিয়াম সাধনা করা নয়। "রোজা একটি ঢালস্বরূপ" - (সহীহ বুখারী)। রমজান আমাদের তাকওয়া, দান সদাকা করা, আত্মত্যাগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ গুনাহ থেকে বিরত থাকা, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং কোরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়।

রোজার মাসের ফরজ আমল সমূহ

রোজার মাসের ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব সমূহ - মুসলমান হিসেবে জানা জরুরী
প্রত্যেক মুসলমানের উপর রোজা রাখা ফরজ। তবে বিশেষকরে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, শারীরিকভাবে রোজা রাখতে সক্ষম এবং স্বাভাবিক বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন তাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হলো যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও। যাতে করে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো" - (সূরা বাকারা, আায়াত :১৮৩)
কোরআনের থেকে বর্ণিত, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে" - (সূরা আল বাকারা : ১৮৫)। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম হচ্ছে এই রমজান মাসের রোজা। রমজান মাসে রোজা পালনের নির্দেশ মদিনায় দ্বিতীয় হিজরীর ১০ শাবান বিশ্বের সমস্ত মুসলিম উম্মার উপর ফরজ করা হয়েছে। রমজান মাসের ফরজ কাজ সাধারণত রমজান মাসের সমস্ত রোজা সহিহ ভাবে পালন করা এবং এর সাথে ফরজে কিফায়া দুটি - ১) শাবান মাসের চাঁদের হিসাব রাখা ২) রমজানের মাসের তারিখের হিসাব রাখা।

রোজার মাসের সুন্নত আমল সমূহ

রমজান হলো পবিত্র একটি মাস। এ মাসের ফজিলত এবং গুরুত্ব অনেক বেশি। আমরা জানি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাজ এবং মৌনসম্মতিতে সাধারণত সুন্নত বলা হয়ে থাকে। এই পবিত্র মাসে বেশ কিছু সুন্নত আমল রয়েছে যেমন - সাহারি খাওয়া, দেরীতে সাহারি করা, দ্রুত ইফতার করা, খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা, তারাবির নামাজ আদায় করা। রমজান মাসের সুন্নত সমূহের মধ্যে এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা, ইত্তেকাফ করা।
এছাড়াও রমজানের শেষ দশকে বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর সন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত আমল। "যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ছাড়ে না আল্লাহর কাছে তার না খাওয়া, না পান করার কোন প্রয়োজন নেই" সহীহ বুখারী। এছাড়াও রমজান মাসে এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা দোয়াটি হলো " আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন সুতরাং, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

রোজার মাসের ওয়াজিব আমলসমূহ

রমজান মাসে ওয়াজিব কাজ খুব বেশি না থাকলেও যে দুটি ওয়াজিব কাজের সম্পৃক্ততা সবথেকে বেশি পাওয়া যায় তা হলো - ১) সাদকাতুল ফিতর আদায় করা অর্থাৎ, ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়তে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা ২) ঈদুল ফিতরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা। এছাড়াও কারো যদি অসুস্থতা, হায়েজ- নিফাসে, সফর ইত্যাদির কারণে রোজা কাজা হয়ে যায় সে ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে, "তাহলে সে অন্য দিনে সমপরিমাণ রোজা করুন করবে" (সূরা আল বাকারা)।

এছাড়াও রমজান মাসে রোজা থাকা অবস্থায় কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙ্গে তাহলে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আমি রোজা অবস্থায় সহবাস করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, একটি দাস মুক্ত করো, না পারলে ৬০টি রোজা একটানা রাখো, তাও না পারলে ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াও"।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Jafor Sadik
Md. Jafor Sadik
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও টেক ভার্স ইনফোর Owner। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছি।