ঈদুল ফিতরের নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব ? - নামাজের নিয়ম, নিয়ত

ঈদুল ফিতরের নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব? - নামাজের নিয়ম, নিয়ত এ সবকিছু সম্পর্কে আমাদের জানা অনেক জরুরী। ঈদুল ফিতরের নামাজ সাধারণত ওয়াজিব নামাজ। ওয়াজিব যার অর্থ হলো অপরিহার্য। ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই রাকাত, যা অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে জামায়াতে আদায় করতে হয়।

ঈদুল ফিতরের নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব ? - নামাজের নিয়ম, নিয়ত

ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ সাধারণত ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে আদায় করতে হয় এবং এ সালাত ফাঁকা স্থান বা ঈদগাহ মাঠে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ঈদুল ফিতর সালাতের নিয়ম নিয়ত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অর্থ হল মনের ইচ্ছা প্রকাশ করা। সালাত আদায়ের জন্য মুখে জোরে জোরে বলে নিয়ত করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। মনে মনে সালাতের জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেই তা যথেষ্ট হয়। কেউ যদি ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবে বলে মনের ইচ্ছা স্থির করে তাহলে তার নিয়ত হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য নামাজের মতো ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্যও নিয়ত করা ফরজ। চলুন, ঈদুল ফিতর নামাজের আরবি এবং বাংলা নিয়ত জেনে নিন -

আরবি নিয়ত:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকায়াতা সালাতি ঈদুল ফিতর, মায়া ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

আরো পড়ুন :তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল? - বিস্তারিত জানতে পড়ুন

বাংলা নিয়ত:

আমি ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করতেছি, আল্লাহু আকবার।

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম

তাকবীরে তাহরিমা

সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরিমা অর্থাৎ, আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধতে হবে। এটি অন্যান্য স্বাভাবিক নামাজের মতো করেই করতে হবে। এরপর সানা পাঠ করতে হবে। ছানা: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারা কাসমুকা ওয়া তায়ালাজাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।

প্রথম রাকাত

এরপর ইমাম সাহেব আল্লাহু আকবর বলে অতিরিক্ত ৩ টি তাকবীর দিবেন। ইমাম সাহেব প্রথম দুটি তাকবীর দেওয়ার সময় একইভাবে আমরা কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিব এবং তৃতীয় তাকবীরে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে পরে হাত নাভির উপরে বেঁধে নিব। (প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবীর এর মতো হাত ছেড়ে দেওয়া যাবে না)। এরপর পড়তে হবে - আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। তারপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা পড়বেন এবং সুরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোন সূরা মিলাবেন। এরপর অন্যান্য সালাতের নেয় রূকু-সিজদাহ আদায় করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত

প্রথম রাকাতে রুকু-সিজদা হয়ে গেলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য পুনরায় দাঁড়াতে হবে। এরপর দ্বিতীয় রাকাত শুরু হলে ইমাম সাহেব সুরা ফাতেহা পড়বেন এবং সুরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়বেন। তারপর ইমাম সাহেব আবার আল্লাহু আকবার বলে অতিরিক্ত ৩ টি তাকবীর দিবেন। প্রথম রাকাতের ন্যায় পরপর তিনটি তাকবীরে হাত কান পর্যন্ত উঠয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থ তাকবীরে ইমামের সাথে রুকুতে যেতে হবে। এরপর নামাজের বাকি নিয়ম-কানুন অন্যান্য স্বাভাবিক নামাজের মত করে আদায় করতে হবে।

সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করা

দ্বিতীয় রাকাতে সিজদার পর বসে তাশাহুদ, দরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পড়তে হবে। এরপর ইমাম সাহেবের সাথে সালাম (আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ) ফেরানোর মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় শেষ করতে হবে। সালাম ফেরানো হয়ে গেলে ১ বার আল্লাহু আকবার এবং ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করতে হবে।

ঈদুল ফিতরের নামাজের দোয়া

ঈদুল ফিতরের নামাজের নির্দিষ্ট কোন দোয়া নেই। তবে আমরা নামাজের মধ্যে এবং নামাজের বাহিরে বিভিন্ন রকম দোয়া এবং জিকির করতে পারি। ঈদের দিন বেশি বেশি ইস্তেগফার, দরুদ শরীফ, নিজের পরিবার এবং বিশ্বের সমস্ত উম্মতের জন্য দোয়া করতে পারি, রমজানের আমল কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে পারি। ঈদের দিনে তাকবীর পড়ার সুন্নত। সাধারণ দোয়া এবং জিকির বেশি বেশি করা যায়। তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম বলা সাহাবীদের আমল।

ঈদুল ফিতরের নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব ? - নামাজের নিয়ম, নিয়ত

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় (তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম) এ দোয়া পড়া সুন্নত। ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তাকবীরটি বেশি বেশি পাঠ করতেন তা হলো - "আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ"। অর্থ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ অতি মহান, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন মা'বুদ নেই। আল্লাহ মহান আল্লাহ মহান তার সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তারই জন্য। এভাবে আমরা ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবীর এবং দোয়া পাঠ করতে পারি।

শেষ কিছু কথা:ঈদুল ফিতরের নামাজ ফরজ নাকি ওয়াজিব ? - নামাজের নিয়ম, নিয়ত সম্পর্কে

মুসলিম উম্মার জন্য বছরে দুইটি আনন্দময় ইবাদতের সময় রয়েছে। এক ঈদুল ফিতর, দুই ঈদুল আযহা। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি এক বিশেষ নেয়ামত। ঈদুল ফিতরের নামাজ সাধারণত দুই রাকাত যায ওয়াজিব নামাজ এবং এই নামাজ জামাতের সঙ্গে ইমামের পেছনে আদায় করা সুন্নত। ঈদুল ফিতরের দিন অনেক সুন্নত রয়েছে যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরও তা আদায় করার জন্য উৎসাহ দিবেন। ঈদুল ফিতরের নামাজের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।

ঈদের নামাজের আগে এবং পরে বেশ কিছু সুন্নত রয়েছে। যা আমাদের সকলের আদায় করা উচিত। ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম নিয়ত সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা আপনার জন্য অনেক সহায়ক। আমরা সবাই অতি গুরুত্বের সাথে ঈদগাহে গিয়ে ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করার চেষ্টা করব। ঈদের প্রকৃত আনন্দ সবার সাথে উপভোগ করব। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে ঈদুল ফিতরের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন - আমিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Jafor Sadik
Md. Jafor Sadik
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও টেক ভার্স ইনফোর Owner। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছি।