তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও ফজিলত

তাহাজ্জুদের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি নফল ইবাদত। তাহাজ্জুদ নামাজ নফল হলেও এটি সু্ন্নত নামাজের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এ নামাজ নিয়মিত পড়তেন, কখনো বাদ দিতেন না।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও ফজিলত

সুতরাং আমরা বুঝতেই পারছি এর গুরুত্ব কতটুকু। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ত, নিয়ম ও অতুলনীয় ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

পেজ সূচিপত্র: তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজ কি? 

তাহাজ্জুদ শব্দটি মূলত আরবি 'হুজুদ' শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে নিদ্রা ত্যাগ করা বা ঘুম থেকে জেগে ওঠা। 
ইসলামের ভাষায়, রাতে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়াকেই তাহাজ্জুদ বলে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, "তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে" - (সূরা আস সাজদাহ, আয়াত - ১৬)। 
আরো পড়ুন : তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল? - বিস্তারিত জানতে পড়ুন
বান্দা আল্লাহর ভালোবাসায় নিজের আরামের ঘুম ত্যাগ করে বিছানা থেকে উঠে রাতে আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করে। এজন্য একে তাহাজ্জুদ বলে। কারণ এ সালাত রাতে ঘুম থেকে উঠে আদায় করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর তাহাজ্জুদের নামাজ আবশ্যক ছিল। তিনি তার জীবন দশায় এ সালাত আদায় থেকে কখনো বিরত থাকেননি।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

ইসলামি পরিভাষায় নিয়ত হলো মনের ইচ্ছা। কেউ যদি তাহাজ্জুদের ২ বা ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে বলে মনের ইচ্ছা স্থির করে, তাহলেই তার নিয়ত হয়ে যাবে। আরবিতে বা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার দরকার হবে না। 
আরবি নিয়ত: نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّيَ رَكْعَتَيِ التَّهَجُدِ لِلّٰهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللّٰهُ اَكْبَرُ

আরবি উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাক‘আতাই তাহাজ্জুদি লিল্লাাহি তা‘আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা‘বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার

বাংলা নিয়ত: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্বিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি আল্লাহু আকবার

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম খুবই সহজ। অন্যান্য নফল ও সু্ন্নত নামাজের নিয়মেই তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে হয়। তাহাজ্জুদ নামাজের সময় হলো এশার নামাজের পর থেকে এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তবে শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে এ সালাত আদায় করা সব থেকে বেশি ফজিলতপূর্ণ। আল্লাহর রাসূল (স.) এশার সালাতের পর ঘুমোতেন এবং ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন এবং সে নামজ পড়তে পড়তে ফজর হয়ে যেতো।


মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সাধারণত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন। তিনি ২ রাকাত ২ রাকাত করে এ সালাত আদায় করতেন।  হাদিসে বর্ণিত আছে, "আল্লাহর রাসূল (স.) রাতে মোট ১১ রাকাত সালাত আদায় করতে, যার মধ্যে বিতর নামাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল"। - সহীহ বুখারী, হাদিস ১১৪৭। এ সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরার কথা উল্লেখ নেই, তবে বড় সূরা বা কেরাত  তেলাওয়াত করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তবে আপনি চাইলে যে কোন সূরা দিয়ে এ সালাত আদায় করতে পারবেন। 

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত 

তাহাজ্জুদের সালাত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে এ সালাতের অসংখ্য ফজিলত এবং গুরুত্বের কথা বর্ণিত আছে। নিচে তাহাজ্জুদ সালাতের ফজিলত সমূহ বর্ণনা করা হলো:
আল্লাহর নৈকট্য লাভ: মহান আল্লাহ তা'য়ালার নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতে আরামের ঘুম বর্জন করে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয়, যা প্রমাণ করে আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা। তাহাজ্জুদ হলো এমন একটি ইবাদাত যা বান্দাকে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনে ও আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে।

দোয়া কবুলের উত্তম সময়: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন,আল্লাহ তা'য়ালা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে শেষ আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন: "কে আছো যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছো আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দান করব" - সহিহ বুখারী। এটি মূলত দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ একটি সময়। বান্দা আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে যখন দু'হাত তুলে দোয়া করে, তখন মহান আল্লাহ তা'আলা তার দোয়া কবুল করে নেয়। 

জান্নাত লাভের সহজ সুযোগ : তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীদের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা আলাদা একটি জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন," নিশ্চয়ই জান্নাতের ভেতরে কতিপয় এমন সুন্দর প্রাসাদ রয়েছে যার বাহিরের দৃশ্যগুলো ভেতর থেকে এবং ভেতরের দৃশ্যগুলো বাহির থেকে দেখা যায়। তখন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে বলল হে আল্লাহর রাসূল, এই প্রাসাদগুলো কাদের জন্য। তখন তিনি বললেন - যার কথা নরম, যিনি ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করেন, নিয়মিত নফল ইবাদতে পালন করে এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে যায় তখন সে সালাত আদায় করে"।

গুনাহ মাফ ও আত্মিক প্রশান্তি: তাহাজ্জুদের সালাত আদায়কারীরা যখন সালাত আদায়ের পর মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে দুই হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তখন মহান আল্লাহ তা'আলা তাদের দোয়া কবুল করে নেন এবং তাদের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। এছাড়াও এ সালাত আদায় করার মাধ্যমে বান্দার আত্মশুদ্ধি হয় ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে।

শেষ কিছু কথা: তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে

গভীর রাতে যখন পৃথিবী নীরব থাকে এবং অধিকাংশ মানুষ নিদ্রারত অবস্থায় থাকে, তখন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করলে সেটা একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে তার ঈমানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। বান্দার সাথে আল্লাহর সুসম্পর্ক গড়ে তোলার এটি একটি অন্যতম মাধ্যম। ফরজ সালাতের পর তাহাজ্জুদের সালাতের গুরুত্ব সব থেকে বেশি। 
এ সালাত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, জান্নাতের সহজ পথ তৈরি হয়, বান্দার দোয়া কবুল হয়, তার জীবনের গুনাহ সমূহ মাফ হয় এবং আত্মশুদ্ধি লাভ করে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এ সালাতে রিয়া বা লোক দেখানো ব্যাপারটা থাকে না। বান্দা গভীর রাতে যখন তার আরামের ঘুম ত্যাগ করে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে যায়, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তার ইবাদাত ও সমস্ত দোয়া কবুল করে নেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Jafor Sadik
Md. Jafor Sadik
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও টেক ভার্স ইনফোর Owner। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছি।