সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ফর বাংলাদেশী
বিদেশে কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশীদের কাছে যেসব দেশের চাহিদা সবথেকে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হলো সিঙ্গাপুর।সিঙ্গাপুরে কাজের জন্য বাংলাদেশীদের ২ ধরণের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। (ওয়ার্ক পারমিট ও এস পাস)। বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা—যোগ্যতা, খরচ,কাগজপত্র, বেতন,প্রসেস, IPA Letter সহ সম্পূর্ণ গাইড এবং সিঙ্গাপুরে কাজের নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পেজ সূচিপত্র: সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ফর বাংলাদেশী
- সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত
- সিঙ্গাপুরে কোন সেক্টরগুলোতে বাংলাদেশী কর্মীর চাহিদা বেশি ?
- সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য বাংলাদেশীদের যোগ্যতা
- সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা-এর সুবিধা
- সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ফি
- সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রসেস,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সময়
- নিরাপদ কর্ম পরিবেশ এবং কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা
- সিঙ্গাপুরের চুক্তিভিত্তিক চাকরি এবং নির্দিষ্ট ছুটি
- বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ
- কর্মীদের ভিসা বাতিলের কারণ
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ ও নবায়ন
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত
সিঙ্গাপুর অর্থনীতি এবং উন্নয়নের দিক থেকে অনেক শক্তিশালী হওয়ায় এখানে কর্মীর
চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হলো সিঙ্গাপুর সরকার
কর্তৃক একটি বিশেষ কর্ম ভিসা এবং এ বিশেষ ভিসার মাধ্যমে দক্ষ ও অদক্ষ উভয়
ধরনের কর্মীকে নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিবছর হাজার হাজার
কর্মী বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের শ্রম বাজারের দক্ষ কর্মীর বেশ অভাব রয়েছে। কাজের ওয়ার্ক পারমিট
সংগ্রহ করে সিঙ্গাপুর কাজের ভিসা প্রসেসিং করতে হয়। এই দেশে শ্রমিকদের কাজের
বেতন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়ে থাকে। এজন্য বাংলাদেশী কর্মীদের
পছন্দের শীর্ষ তালিকায় থাকে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মীদের পছন্দের দেশ হলো
সিঙ্গাপুর।
এছাড়াও বাংলাদেশের কর্মীদের কাছে সিঙ্গাপুর অনেক পছন্দের একটি দেশ কারণ এখানকার
কাজের নিরাপদ পরিবেশ উচ্চ বেতন ও নিয়মিত কাজের সুবিধা। এ ভিসা নিজে নিজে আবেদন
করা যায় না।এই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়
এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া Ministry of Manpower(MOM)দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত।
সিঙ্গাপুরে কোন সেক্টরগুলোতে বাংলাদেশী কর্মীর চাহিদা বেশি ?
সিঙ্গাপুরে বেশ কিছু সেক্টর আছে যেখানে বাংলাদেশী কর্মীদের চাহিদা অনেক বেশি।সেই
নির্দিষ্ট সেক্টরগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো—কনস্ট্রাকশন, প্লাম্বার, ক্লিনার,
ম্যানুফ্যাকচারিং,ফ্যাক্টরি,মেরিন শিপইয়ার্ড, সার্ভিস সেক্টরসহ আরো বিশেষ কিছু
সেক্টর। এই সেক্টরগুলোতে কাজের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। এক বা একাধিক কাজের উপর দক্ষতা
ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারপর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করে সিঙ্গাপুর যাওয়া উচিত।
কনস্ট্রাকশন সেক্টর : এ সেক্টরের অধীনে আছে নির্মাণ কাজ, কাঠামোগত কাজ ,
সাইড ওয়ার্ক , বাড়ি ,হাসপাতাল, স্কুল, কমপ্লেক্স নির্মাণ ইত্যাদি। এসব
কাজের জন্য সিঙ্গাপুরে কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেরিন শিপইয়ার্ড : জাহাজ নির্মাণ, মেরামত এবং জাহাজ সংশ্লিষ্ট সকল কাজ এই
সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। অনেক বাংলাদেশী কর্মী এই সেক্টরে কাজ করছে এবং বাংলাদেশী
কর্মীদের কাছে এই সেক্টর দিন দিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর : এই সেক্টর মূলত ফ্যাক্টরি লাইন , উৎপাদন ,
কারখানা ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদি বিষয়ক। এই সেক্টরে মূলত অর্ধ দক্ষ
কর্মীর প্রয়োজন হয়ে থাকে। কারখানার সংশ্লিষ্ট কাজ হওয়ার কারণে এটি ও বাংলাদেশী
কর্মীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়।
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য বাংলাদেশীদের যোগ্যতা
Work Permit(কাজের অনুমতিপত্র) কি এবং কাদের জন্য :
প্রথমত সিঙ্গাপুরে কাজ করতে হলে আপনাকে কোন কাজের অফার পেতে হবে। এক কথায়
সিঙ্গাপুর ভিত্তিক কোন কোম্পানি অথবা নিয়োগকর্তাকে আপনার জন্য স্পন্সরশীপ
করতে হবে। ওয়ার্ক পারমিট মূলতঅদ ক্ষ ও অর্ধ দক্ষ শ্রমিকদের জন্য হয়ে থাকে।
যারা সাধারণত,কনস্ট্রাকশন,ফ্যাক্টরি,ক্লিনার,মেইড, রেস্তোরাঁ, ইত্যাদিতে কাজ
করে থাকে। এ ধরনের কাজের জন্য যারা ইচ্ছুক মূলত তাদের জন্যই ওয়ার্ক
পারমিট।
ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্যতা :
১. সেক্টর ও নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪৫ বছর।
২.শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম JSC অথবা SSC।
৩. স্বাস্থ্যগত শর্ত যেমন মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
৪. নিষিদ্ধ কোন অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না।
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা-এর সুবিধা
১. সিঙ্গাপুরের শ্রমিকদের উচ্চ বেতন ও সময়মতো স্যালারি প্রদান। স্যালারি কেটে
নেওয়া, দেরি,অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
২. শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত।
৩. শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী এবং নিরাপদ চাকরির সুযোগ সুবিধা।
৪. নিজ নিজ কর্মস্থলে ওভারটাইমের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ।
৫. কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে থাকার সুব্যবস্থা।
৬. সিঙ্গাপুরের শ্রমিক হিসেবে কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে পরবর্তীতে ভালো চাকরির
সুযোগ।
৭. কোম্পানির পক্ষ থেকে কর্মীদের বিভিন্ন বোনাস ও ভাতা প্রদান।
৮. শ্রমিকদের জন্য রয়েছে কাজের নিরাপত্তা , মেডিকেল এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন।
৯. সিঙ্গাপুরের মত উন্নত দেশে কাজের অভিজ্ঞতা।
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ফি
ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য সাধারণত দুই ধরণের ফির প্রয়োজন হয়(আবেদন ফি ও
ইনস্যুরেন্স ফি)। আবেদন ফি এবং ইনস্যুরেন্স ফির পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক
পারমিট ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক আরো কিছু খরচ থাকে। প্রথম ধাপে আবেদন ফি 35
SGD(৩৩০০টাকা) এবং আবেদন অনুমোদিত হলে ইন্সুরেন্স ফি আরো ৩৫ SGD(৩৩০০টাকা) দিতে
হয়। সুতরাং, ভিসা সংক্রান্ত মূল ফি ৭০ SGD(৭০০০ টাকা)।
মূল ভিসা ফির পাশাপাশি আর আনুষঙ্গিক কিছু বাধ্যতামূলক খরচ রয়েছে —যেমন Medical
Check-up, Security Bond, এবং Foreign Worker Levy ইত্যাযাদি যা জানা থাকলে
আবেদনকারীর আবেদন করা আরও অনেক সহজ হয়ে যায়। এ ভিসার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা
আবশ্যক। সাধারণত 30–100 SGD() এর মধ্যে হয়ে থাকে। কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে ইনস্যুরেন্স এবং সিকিউরিটি বন্ডের প্রয়োজন হয়। যার খরচ সাধারণত নিয়োগকারী
প্রতিষ্ঠান বহন করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলোর মধ্যে একটি হলো মাসিক Foreign Worker Levy, যা
কর্মীর সেক্টর ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করে 300-950 SGD() পর্যন্ত হতে
পারে।সব ফি ও দায়িত্ব মিলিয়ে ওয়ার্ক পারমিট শুরু করতে মোট আনুষঙ্গিক খরচ প্রায়
500–2000 SGD() পর্যন্ত হতে পারে। যেহেতু এই সব খরচের বড় অংশই
নিয়োগকর্তা বহন করেন, তাই কর্মীর উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ে না। এই কারণেই
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং
আকর্ষণীয় কর্ম ভিসা হিসেবে পরিচিত।
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রসেস,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সময়
এই সম্পূর্ণ ভিসা প্রক্রিয়া এজেন্সি বা নিয়োগদাতার মাধ্যমে সম্পন্ন
হয়। ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য কর্মীকে প্রথমে এজেন্সিতে গিয়ে আবেদন করতে
হবে। সিঙ্গাপুরে কোন কোম্পানির কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে তখন তারা
Ministry of Manpower(MoM) এ আবেদন করে এবং ওয়ার্ড পারমিটের অনুমোদন
সংগ্রহ করে। অনুমোদন পাওয়ার পর ঐ কর্মীকে মেডিকেল টেস্ট, ইন্সুরেন্স এবং
অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে হয়।
এরপর In- Principal Approval(IPA)ইস্যু হয়।এই IPA এর মাধ্যমে কর্মীর ভিসা
পাওয়ার প্রাথমিক অনুমতি হিসেবে কাজ করে। তারপর কর্মী এটি নিয়ে সিঙ্গাপুরে
প্রবেশ করতে পারবে। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর নিয়োগদাতা কর্মীর বায়োমেট্রিক
রেজিস্ট্রেশন, মেডিকেল চেকআপ এবং MOM এর চূড়ান্ত তথ্য জমা দেয়।তারপর সব ধাপ
সম্পূর্ণ হলে কর্মীর কাছে ইস্যু করা হয় ওয়ার্ড পারমিট কার্ড(Work Permit Card)
এবং এই ওয়ার্ড পারমিট কার্ড তাকে সিঙ্গাপুরে আইনগতভাবে কাজ করার পূর্ণ অধিকার
দেয়।নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
১.নিয়োগদাতা কোন কর্মীর জন্য আবেদন করার সময় যা যা লাগে :
পাসপোর্ট কপি
ছবি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্বের চাকরির অভিজ্ঞতা
শিক্ষাগত যোগ্যতা (প্রয়োজনে)
২. IPA Approval (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট)
IPA–তে থাকে:
Work Permit অনুমতির নম্বর
এন্ট্রি পাস
মেডিকেল রিপোর্ট নির্দেশনা
ভিসার শর্তাবলী
৩.সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পরে মেডিকেল চেক-আপ
HIV
TB (Chest X-ray)
Blood Test
General Health Condition
৪.Fingerprint (Biometric Enrollment)
MOM সেন্টারে আপনার:
ফিঙ্গারপ্রিন্ট
ছবি
আইডি ভেরিফিকেশন
রেকর্ড করা হবে।
৫.Work Permit Card ইস্যু
সব ধাপ সম্পন্ন হলে ৪–৭ দিনের মধ্যে আপনার Work Permit Card ইস্যু করা হয়।
এটিই আপনার মূল পরিচয়পত্র এবং কর্মপরিচয়।
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ব্যক্তিগত ডকুমেন্টস :
বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকা আবশ্যক)
বায়োমেট্রিক ছবি
জন্মনিবন্ধন / জাতীয় পরিচয়পত্র
শিক্ষাগত সনদ (প্রয়োজনে)
পূর্বের অভিজ্ঞতার সনদ (কিছু সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ)
নিয়োগদাতার ডকুমেন্টস
কোম্পানি লাইসেন্স
কোটার অনুমতি
লেভি পেমেন্ট
ইনস্যুরেন্স (Medical Insurance + Security Bond)
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য সময়
সাধারণ সময়কাল:
IPA Approval: ১–৩ সপ্তাহ
মেডিকেল + বায়োমেট্রিক: ৩–৫ দিন
Work Permit Card ইস্যু: ৪–৭ দিন
মোট সময়: প্রায় ২–৪ সপ্তাহ
নিরাপদ কর্ম পরিবেশ এবং কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা
নিরাপদ কর্ম পরিবেশ : সিঙ্গাপুর
তাদের কর্মীর নিরাপত্তা বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং সিঙ্গাপুরে কর্মীদের জন্য একটি
নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তাদের জন্য আইনি
বাধ্যবাধকতা। কর্মীদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর
কাজের পরিবেশ,নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা,প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, দুর্ঘটনা
প্রতিরোধ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ইত্যাদি। সিঙ্গাপুরের "WSH Act" অনুযায়ী প্রতিটি
কোম্পানিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হয়েছে।
কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা: যেসব কর্মী সিঙ্গাপুরে কাজ করার জন্য যায় তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ
স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য বীমা সম্পর্কে সিঙ্গাপুর অনেক বেশি
সচেতন ও কঠোর। সিঙ্গাপুরে কর্মীদের সুস্থতার জন্য সকল প্রকার প্রয়োজনীয়
স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা আইনগত ভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়োগ
দাদারা প্রতিবছর প্রত্যেক কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ হেলথ ইন্সুরেন্স করতে
বাধ্য। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ অসুস্থতার চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি
,সার্জারি বা জরুরি চিকিৎসা, ক্লিনিক ভিজিট এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার চিকিৎসা
সম্পন্ন বিনামূল্যে।
সিঙ্গাপুরের চুক্তিভিত্তিক চাকরি এবং নির্দিষ্ট ছুটি
কর্মীদের কাছে সিঙ্গাপুর আজ অন্যতম কর্ম বান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে
বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরে চুক্তিভিত্তিক চাকরি একটি বড় সুযোগ তৈরী
করেছে।চুক্তিভিত্তিক চাকরি বলতে সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট
কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত একটি চাকরি। এ চুক্তি সাধারণত ১ বছর, ২
বছর বা ৩ বছরের জন্য হয়ে থাকে।
চুক্তিতে চাকরির যেসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে:
চাকরির নিয়মাবলি ও মেয়াদ
চাকরির বেতন ও বোনাস
সাধারণ ও সরকারি ছুটির নিয়ম
কাজের ধরন ও সময়
থাকা ও যাতায়াতের সুবিধা
স্বাস্থ্য, মেডিকেল সুরক্ষা ও বীমা
চুক্তি নবায়নের শর্ত
ওভারটাইমের শর্ত
কর্মীদের নির্দিষ্ট ছুটির তালিকা:
অসুস্থজনিত ছুটি — মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ কনফার্মড কর্মীরা সাধারণত বছরে বাইরে
অসুস্থতাজনিত ছুটি ১৪ দিন এবং হাসপাতালে ভর্তির ছুটি বাবদ ৬০ দিন পেয়ে
থাকেন।
সাপ্তাহিক ছুটি — প্রতি সপ্তাহে কর্মীদের বিশ্রামের জন্য অন্তত ১ দিন ছুটি
দেয়া হয়।
বার্ষিক ছুটি — প্রতিবছর কর্মীরা বার্ষিক ছুটি হিসেবে সবথেকে ৭- ১৪ দিনের
ছুটি পেয়ে থাকে।
সরকারি ছুটি — সিঙ্গাপুরে মোট ১১ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে।
বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ
যারা বিদেশে স্থায়ী আয়ের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য
সিঙ্গাপুরের চাকরি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। কারণ সিঙ্গাপুরে রয়েছে কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url