সৌদি আরবে টুরিস্ট ভিসা ফি ফর বাংলাদেশী

ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন ও আধুনিক উন্নয়নের জন্য বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবে পর্যটনের জন্য প্রয়োজন টুরিস্ট ভিসা।
সৌদি আরবে টুরিস্ট ভিসা ফি ফর বাংলাদেশী

সৌদি ভ্রমণের জন্য ভিসা ফি সম্পর্কে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য জানা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এখন সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা ফি, প্রসেসিং, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্র: সৌদি আরবে টুরিস্ট ভিসা ফি ফর বাংলাদেশী

২০১৯ সালে সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রচলিত সহজ অনলাইন ভিসা সিস্টেমের মধ্যে সৌদি আরবের এই টুরিস্ট ভিসা সিস্টেম অন্যতম। এ ভিসার জন্য ঘরে বসে খুব সহজেই আবেদন করা যায়।এই ট্যুরিস্ট ভিসাটি সাধারণত ১ বছর মেয়াদী মাল্টপল এন্ট্রি ভিসা। এ ভিসার মাধ্যমে ভিসাধারী উক্ত বছরে একাধিকবার সৌদি আরব ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে প্রতিবার অবস্থান করা যায় সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত। 

সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা ফি

সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা ফি


বাংলাদেশীদের জন্য সৌদি আরবের সাধারণ টুরিস্ট ভিসা ফি সাধারণত ৪০০-৪৫০ রিয়াল।যা বাংলাদেশী টাকায় ১৩,০০০-১৫,০০০ টাকার মতো। তবে এ খরচ আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে কম বেশি হতে পারে।এছাড়াও যাতায়াত, বিমান টিকিট, হোটেল ভড়া ঈত্যাদি আনুষঙ্গিক খরচ ভিসার অন্তর্ভুক্ত নয়। যা ভ্রমণের মোট খরচকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

 ভিসা ফি এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূ্হ:
  • আবেদন ফি
  • ভিসা ফি
  • এজেন্সি  সার্ভিস চার্জ
  • মেডিকেল ইন্সুরেন্স চার্জ

সৌদি আরবের টুরিস্ট ভিসার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন

সৌদি আরবের টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করুন নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে :
১. প্রথমত অনলাইনে সৌদি আরবের টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে আপনাকে 
https://visa.visitsaudi.com এই ওয়েধসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
২. এই ভিসা প্লাটফর্মে প্রথমে আবেদনকারীকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। সাধারণত সৌদি ই-ভিসা সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়।
৩.অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন: ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, সফরের উদ্দেশ্য , যোগাযোগের ঠিকানা ইত্যাদি সঠিকভাবে প্রদান করতে হয়।
৪. এরপর পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস স্ক্যান কপি সিস্টেমে আপলোড করতে হয়।
৫. আন্তর্জাতিক ডেভিড বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে ভিসা ফ্রি পরিশোধ করতে হয়।

সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • অবশ্যই আপনার একটি ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং এই পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
  • পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি - ২কপি (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হলে ভালো হয় এবং তা সম্প্রীতি তোলা ছবি হতে হবে )
  • আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অবশ্যই NID অথবা জন্ম নিবন্ধনের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
  • ভিসা আবেদন ফরম।(উক্ত ফর্মে সকল তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
  • বাধ্যতামূলক মেডিকেল ইন্সুরেন্স কাগজ থাকতে হবে।(যা আবেদনকারীকে ভ্রমণকালীন সময় জরুরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং পেশাগত পরিচয়।
  • ইমেইল ও মোবাইল নম্বর।

সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং

প্রসেসিং সময়: অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ভিসা ফি পরিশোধ করলেই টুরিস্ট ভিসার আবেদন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের টুরিস্ট ভিসার প্রসেসিং সময় সাধারণত ১৫-২০ কার্যদিবস। তবে কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই প্রসেসিং সময় কমবেশি হতে পারে।দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হলে এ সময় কমে আসে ৫-১০ কার্যদিবস এ।

ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহ: ভিসা অনুমোদিত হলে ইমেইলে ই-ভিসা কপি পাঠানো হয়। সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্ট দিলে পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং ঝামেলামুক্তভাবে সম্পন্ন করা যায়। টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনের পর সম্পূর্ণ কার্য সম্পাদন হলে এবং ভিসাটি অনুমোদন হলে পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার লাগানো হয়। এরপর আবেদনকারীকে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে হবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Jafor Sadik
Md. Jafor Sadik
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও টেক ভার্স ইনফোর Owner। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছি।