১৯ তম নিবন্ধনের পাশ মার্ক বিশ্লেষণ ও নিশ্চিত চাকরির সমীকরণ
১৯ তম নিবন্ধনের পাশ মার্ক কত? ১৯ তম নিবন্ধনে নিশ্চিত চাকরির সমীকরণ কি? এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে। NTRCA এর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এবারের পরীক্ষার ন্যূনতম পাস মার্ক ৪০%। ২০২৬ সালে ১৯ তম নিবন্ধনের পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল সুখবর রয়েছে তা হলো, সার্কুলারে পাশ করলে সরাসরি চাকরি সুযোগ। নিচে ১৯ তম নিবন্ধনের পাশ মার্ক বিশ্লেষণ ও নিশ্চিত চাকরির সমীকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১৯ তম নিবন্ধনে ন্যূনতম পাস মার্ক ৪০%?
১৯ তম নিবন্ধনে এবার পাস মার্ক থাকছে ন্যূনতম ৪০%। কিন্তু ৪০% মার্ক পেলেও আপনি পাস করবেন না। ১৮ তম নিবন্ধন পর্যন্ত ৪০% মার্ক পেলে পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য উত্তীর্ণ হতো। কিন্তু এখন থেকে আগের সিস্টেম আর থাকছে না। ১৯ তম নিবন্ধন থেকে শুরু হয়েছে কাট মার্ক পদ্ধতি। চলুন জেনে নেই কাট মার্ক পদ্ধতিটা আসলে কি?
এবারের নিবন্ধনে ৪০% মার্ক পেলে পাস কিন্তু ৪০% পার্সেন্ট মার্ক পেলেও পাস নাও হতে পারে কারণ, এটি কাট মার্ক পদ্ধতি। এখন কেউ যদি পার্সেন্টের বেশিও মার্ক পায় তাহলেও তাকে পাস করানো হবে না। কারণ ধরে নিন, এবার নিবন্ধনে মোট ১ লক্ষ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিবেন। এই ১ লক্ষ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শূন্য পদ আছে ১০০০টি। এরমধ্য থেকে NRTCA এর বিধিমালা অনুযায়ী ১:২ অনুপাতে শিক্ষার্থীদের পাস করানো হবে। অর্থাৎ ১ হাজারটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার জনকে পাস করানো হবে। বাকি সবাই যদি ৪০% এর উপরেও মার্ক পায় তাহলেও তারা সবাই ফেল বলে গণ্য হবে। কারণ এই ১ লাখ শিক্ষার্থীর নাম্বার সিরিয়াল অনুযায়ী সাজানো হবে। সিরিয়াল অনুযায়ী যে ২ হাজার শিক্ষার্থীর নাম্বার সব থেকে বেশি থাকবে শুধু তারাই পাস করবে।
সার্কুলারে পাস করলেই থাকছে চাকরির নিশ্চিত সুযোগ
২০২৬ সালের ১৯তম নিবন্ধনে পাস করলেই চাকরি নিশ্চিত! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। এবারের নিবন্ধন পরীক্ষায় কোন ঝামেলা ছাড়াই পাস করলেই চাকরি নিশ্চিতের সুযোগ রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে নিবন্ধনে পাস করার পরেও চাকরি হতো না। ১৯ তম নিবন্ধন থেকে সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়া চলে গেছে যার কারণে আগের মত পাস করলেও চাকরি না হওয়ার দুঃখ আর কারো থাকবে না। যদি আপনি ১৯ তম নিবন্ধনে পাস করতে পারেন তাহলে আপনি সরাসরি গিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন।
এবারের নিবন্ধন পরীক্ষা ৪৯ তম বিসিএস পরীক্ষার মতো হুবহু একই পদ্ধতিতে হবে। প্রিলিমিনারি_ভাইভা_যোগদান। যারা যারা নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করবেন তারা তারা চাকরি পাবেন ১০০% নিশ্চিত। এবারের নিবন্ধনের সিস্টেম করা হয়েছে শূন্য পদ ভিত্তিক। ধরে নিন যদি ১ হাজার পদ ফাঁকা থাকে, তাহলে ঔ ১ হাজার জনকে সরাসরি উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া হবে। পুরাতন পদ্ধতিতে প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হতো তারপরে হতো লিখিত পরীক্ষা এবং সবশেষে হতো ভাইভা। ভাইভা পরীক্ষার পরে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হতো সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করে তাদের মেধা তালিকা করা হতো। মেধা তালিকার পরবর্তীতে গণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হতো। এখানে টিকলে তবে সুপারিশ দেয়া হতো।
মূলত পুরাতন পদ্ধতি ছিল অনেক ঝামেলার এবং সময় সাপেক্ষ। এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে প্রায় ১-১.৫ বছর সময় লেগে যেত। এজন্য নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে যাতে সময় এবং ঝামেলা মুক্তভাবে নিবন্ধন পরীক্ষা এবং এর কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। নতুন পদ্ধতিতে ঝামেলা মুক্ত এবং কম সময়ের মধ্যে নিবন্ধন পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কারণ একজন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে পাস করলে পরবর্তীতে তাকে ভাইভার জন্য ডাকা হবে এবং সে ভাইভাতে পাশ করলে তার জন্য সুপারিশ করা হবে। এভাবেই ১৯ তম নিবন্ধনে পাস করলেই সরাসরি পরীক্ষার্থীদের জন্য থাকছে চাকরির নিশ্চিত সুযোগ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url