ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ দেখার নিয়ম জেনে নিন ২০২৬
পুরো মুসলিম বিশ্ব রমজান মাসে ১ মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল ঈদ কবে হবে তা নির্ধারণ করা হয় কিভাবে? সাধারণত আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিন নির্ধারণ করা হয়।
মুসলমানদের দুইটি বড় উৎসব রয়েছে। এর মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর হলো অন্যতম। ইসলামী শরীয়াভিত্তিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কিভাবে চাঁদ দেখা হয় সে বিষয় নিয়ে এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। সুতরাং, ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ দেখার নিয়ম জেনে নিন ২০২৬।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ঈদের চাঁদ দেখার নিয়ম
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা
ভাঙ্গো" - সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। ইসলামের এমন অনেক বিষয়ে রয়েছে যা চাঁদ
দেখার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় এবং এই চাঁদ দেখার বিষয়টি সরাসরি হাদিস দ্বারা
প্রমাণিত। মূলত চাঁদ দেখার মূলনীতি হচ্ছে, চোখে চাঁদ দেখা বা বিশ্বস্ত সাক্ষ্য
গ্রহণ করা। চাঁদ দেখার ইসলামী শরীয়াহ নিয়ম হলো, ২৯ রমজানের সন্ধ্যায় চাঁদ খোঁজা
হবে। যদি ২৯ রমজান সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ঈদ-উল-ফিতর পালন করা
হবে। আর চাঁদ না দেখা গেলে রমজান মাস হবে ৩০ দিনের এবং রমজান মাসে পুরো ৩০টি রোজা
পূর্ণ হবে।
বাংলাদেশে ঈদের চাঁদ দেখার সরকারি প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে ঈদের চাঁদ দেখার জন্য দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার ঈদ পালনের জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির যে চাঁদ দেখার প্রক্রিয়াটি রয়েছে সেটি হলো - ২৯ রমজান সন্ধ্যায় সারাদেশে চাঁদ পর্যবেক্ষণ তারপর জেলা প্রশাসন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সাক্ষ্য গ্রহণ। এই সাক্ষ্য গ্রহণ ও সভা শেষে সরকারিভাবে তা ঘোষণা করা এবং টেলিভিশন ও সংবাদ প্রচার মাধ্যমে তা প্রচার করা। তবে আমাদের দেশের চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ার সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাঁদ দেখার নিয়মে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোন দেশে জ্যোতির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আবার কোন দেশে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার উপর ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া
ইসলামী শরীয়াহ এর পাশাপাশি বর্তমান যুগে চাঁদ দেখার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সন্ধ্যার পর পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর খালি চোখে চাঁদ খোঁজা হয় এবং টেলিস্কোপ দিয়ে পরবর্তীতে চাঁদ খোঁজা হয়। বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী চাঁদের জন্ম, সূর্যাস্তের সময় চাঁদের অবস্থান, দৃশ্যমানতা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ও ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেকটাই তফাত রয়েছে। ইসলামী শরীয়াহ মতে বাস্তব চাক্ষুষ প্রমাণ হলো মূল ভিত্তি।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url