দীর্ঘ এক বছর পর রমজান মাস আমাদের কাছে এসেছে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং
আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ নিয়ে। প্রত্যেক মুসলিম এ মাসে বেশি বেশি আল্লাহর
ইবাদতে মগ্ন থাকে। এজন্য ২০২৬ সালের রমজান মাস কবে শুরু হবে এবং সাহরি ও
ইফতারের সম্ভাব্য সময়সূচী কি হতে পারে তা আমাদের জানা প্রয়োজন।
সাধারণত চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে হিজরী ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়। সে
অনুযায়ী ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ
১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। তবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এই সময় কম
বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের রমজান মাসের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী নিয়ে নিচে আরও
বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
২০২৬ সালের রোজা কত তারিখ, সাহরি-ইফতারের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাস প্রত্যেক মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। প্রত্যেক
মুমিন ব্যক্তি সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে এ পবিত্র মাসের জন্য। এ বছর ২০২৬ সালের
১লা রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি। রমজান মাসের খুব
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো সাহরি করা, রোজা রাখা,ইফতার করা। এগুলো
ছাড়াও রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী শরীয়তে
সাহরি ও ইফতারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত রয়েছে নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা
হলো:
সাহরির গুরুত্ব: সাহরি
বলতে মূলত রোজা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা শেষ রাতে যে খাবার খেয়ে থাকি সেটাকে
বোঝানো হয়। এটি রোজা রাখার প্রথম ধাপ এবং এটি একটি ইবাদত। সাহরির খাবার
মূলত বরকতময় খাবার। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমরা সাহারি খাও কেননা সাহারীতে
বরকত রয়েছে" - (বুখারী)। মুসলিমরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদিরাও রোজা পালন করে।
কিন্তু তাদের আর মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহরি। এই সাহারি খ্রিস্টান
হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। সাহরি খাওয়া রোজাদারদের জন্য
ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তাছাড়া যারা সাহরি খায়
আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর রহমত নাযিল করেন। সারাদিন না খেয়ে থাকার জন্য
শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তির যোগান দিতে সাহরি অত্যন্ত কার্যকর।
ইফতারের গুরুত্ব: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে রোজা রাখার পর রোজা ভাঙার যে
প্রক্রিয়া সেটিকে ইফতার বলা হয়। ইফতার অত্যন্ত আনন্দ ও সওয়াবের মুহূর্ত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রোজাদার বান্দা ইফতারের আগ মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া
করলে সেই দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা সে দোয়া কবুল করে
নেন। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ
তারা দ্রুত ইফতার করবে"। অর্থাৎ সময় হওয়ার সাথে সাথে দেরি না করে ইফতার করা
সুন্নত। মহাানবী (স.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এজন্য খেজুর বা পানি দিয়ে
ইফতার করা সুন্নত। একজন রোজাদার ব্যক্তি যদি অন্য একজন রোজাদার ব্যক্তিকে
ইফতার করায় তাহলে সে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে।
বি.দ্র: ১লা রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল
রমজান মাসের বিশেষ গুরুত্ব
রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত বরকতময়। এ মাস একজন মুমিনের জন্য
আত্মশুদ্ধি,সংযম, ত্যাগ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ
সময়। রমজান মাস প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ
মাসে মুমিনরা রোজা রাখার মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সংযমী হতে শেখে। এছাড়াও
সাহরি, ইফতার, কোরআন তিলাওয়াত, তারাবি, সাদাকা ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে
বান্দা ইবাদতের বিশেষ সুযোগ পেয়ে থাকে এই মাসে। রমজান মাস বিশেষ
গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণ গুলোর নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
কোরআন নাজিলের মাস:এই
পবিত্র রমজান মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা পুরো মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র
কোরআন নাজিল করেছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর উপর
এই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছিলেন। এজন্য এ মাসে কোরআন
তিলাওয়াত করা অন্যান্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি ফজিলত পূর্ণ।
লাইলাতুল কদর: পবিত্র রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও
উত্তম। রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোর রাত হল লাইলাতুল কদরের রাত। এই
রাতের ইবাদাত হাজার বছরের ইবাদতের তুলনায়ও অনেক বেশি উত্তম। এজন্য আমাদের
উচিত লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা।
জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত: রমজান মাস ব্যতীত অন্য সকল মাসে জাহান্নামের দরজা খোলা থাকলেও এই মাসে তা
বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়। শয়তানকে
শিকল দ্বারা আবদ্ধ করা হয়।
গুনাহ মাফের সুযোগ:রমজান
মাস হলো গুনা মাফের মাস।এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা তার গুনাহগার বান্দাদের মাফ করে
দেন। রাসূল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে
রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে"।
রমজান মাসের ইবাদাত ও আমল
রমজান মাসের ইবাদত মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে অন্যান্য মাসের ইবাদতের চাইতে বহুগুণ
বেশি পছন্দনীয়।
রমজান মাসে রোজাদারদের নেক আমলের কারণে তাদের সওয়াব দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত
বৃদ্ধি করা হয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,"রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান
দেব"। অন্যান্য মাসের সওয়াবের পরিমাণ নির্দিষ্ট হলেও রমজান মাসের সওয়াবের
পরিমাণের কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই।
রমজান মাসের ইবাদত ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
রমজান মাসের প্রধান ইবাদত ও আমল গুলোর মধ্যে রয়েছে সিয়াম বা রোজা পালন
করা, সঠিক সময়ে সাহরি ও ইফতার করা, জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও
তারাবির নামাজ আদায় করা, বেশি বেশি সহিহ ও শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন
তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি জিকির ও তসবি পাঠ করা, দান সদাকা করা, যাকাত
প্রদান করা, রমজানের শেষ দশ রাতে(বিজোড়) লাইলাতুল কদর সন্ধান করা এবং
লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদাত বন্দেগী করা, সদকাতুল ফিতর আদায়
করা।
এছাড়াও রমজান মাসের প্রত্যেকটা মুহূর্তই অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে আমাদের
উচিত এই মাসের পুরোটা জুড়েই বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত থাকা। মহান
আল্লাহ তায়ালাকে খুশি এবং তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমরা এ মাসে আরো বেশি বেশি
ইবাদত ও নেক আমল করার চেষ্টা করব।রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া এবং আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জন করা। এজন্য আমরা কেউ লোক দেখানো ইবাদত করব না।
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও টেক ভার্স ইনফোর Owner।
আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।
৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছি।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url