ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০ টি টিপস যা আপনার
চুলকে করে তুলবে ঘন, স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল। চুলের যত্ন নিতে এবং উজ্জ্বলতা
বাড়াতে ঘরোয়া উপাদানের কোন বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিলে আপনার
চুলের উপকারের জন্য তা হবে দীর্ঘস্থায়ী। উজ্জ্বল, ঘন, স্বাস্থ্যকর চুল
আমাদের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে।
বেশ কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা আমাদের চুলের যত্ন নিতে পারি।
আমাদের ঘরে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের চুলকে করতে
পারি উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর। ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০ টি
টিপস (আপনার জন্য উপকারী) নিচে দেওয়া হলো।
পেজ সূচিপত্র: ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০ টি টিপস
আমাদের চুল সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য
চুল মূলত কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। মানুষের চুল শুধু সৌন্দর্যের
অংশ নয়। এটি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও বটে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক
মানুষের মাথায় গড়ে ৮০,০০০ - ১,২০,০০০ টি চুল থাকে আর এই চুল প্রতিদিন গড়ে
০.৩ - ০.৪ মিলিমিটার বৃদ্ধি পায়। আমাদের চুলের মূল অংশ থাকে ত্বকের ভেতরে এবং
বাহির থেকে যেটা দেখা যায় সেটাকে বলা হয় চুলের শ্যাফট। চুল মূলত তিনটি স্তর
নিয়ে গঠিত তা হলো - কিউটিকল, কর্টেক্স, মডুলা। স্তরগুলো যত সুস্থ থাকবে
আমাদের চুল তত বেশি মজবুত, সিল্কি এবং উজ্জ্বল হবে। এছাড়াও আমাদের চুলের রং
নির্ভর করে মেলানিন নামক এক রঞ্জক পদার্থের উপর।
এজন্য আমাদের উচিত চুলের যত্ন নেওয়া, যেন আমাদের চুল হয় মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর।
চুল নিয়মিত যত্ন না পেলে তা হয়ে যায় রুক্ষ, দুর্বল ও প্রাণহীন। প্রতিদিনের
ধুলাবালি, দূষণ, অপুষ্টি, তৈলাক্ত খাদ্যাভাস, অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং,
কেমিক্যাল এর ব্যবহার ইত্যাদির কারণে চুল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিতে পারলে চুল পড়া কমে যাবে, চুলের গোড়া মজবুত হবে,
চুল লম্বা ও ঘন হবে, খুশকি ও শুষ্কতা দূর করবে এবং চুলকে সিল্কি এবং সাইনি
করবে।এজন্য চুলের সুস্থতার জন্য চুলের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন
আমরা ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০টি টিপস সম্পর্কে বিস্তারিত
জানবো।
চুলের যত্নে নারিকেল তেলের সঠিক ব্যবহার
নারিকেল তেলে রয়েছে ময়েশ্চারাইজিং এবং চুলের জন্য পুষ্টিকর কিছু গুরুত্বপূর্ণ
উপাদান। নারিকেল তেল চুলের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দারুন কাজ করে। এটি আপনার মাথার
ত্বককে কন্ডিশন করতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে
অন্তত দুই থেকে তিন দিন হালকা গরম নারিকেল তেল স্ক্যাল্পে ম্যাাসাজ করুন। নিয়মিত
ব্যবহারের ফলে আপনার চুল মজবুত হতে পারে, চুলের ভাঙ্গা রোধ করতে পারে, চুল পড়া
কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুষ্কতা বা ক্ষতির কারণে আমাদের চুল পড়ে
যায়। আপনার চুলে নারিকেল তেলের সঠিক ব্যবহারে ফলে আপনার চুল পড়া রোধ করতে
পারে।
নারিকেল তেলে তেমন কোন পার্শ্ব - প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর উপাদান নেই। এজন্য এ
তেল ব্যবহার সবার জন্য নিরাপদ। নারিকেল তেল হালকা গরম করে আপনার মাথার
স্ক্যাল্পে এবং চুলে ব্যবহার করুন। কয়েক ঘন্টা রেখে পরে শ্যাম্পু দিয়ে
ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলের গোড়া মজবুত করে এবং রক্ত সঞ্চালন
বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এই তেলের ব্যবহারে আপনার মাথার ত্বকের কোন সমস্যা দেখা
দিলে তা ব্যবহার করা বন্ধ করুন। অতিরিক্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই কোনো
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চুলের যত্নে রোজমেরি তেলের ব্যবহার
রোজমেরি একটি তেল যা আপনার নতুন চুল গজাতে এবং ঘনত্ব বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা
পালন করে। রোজমেরি তেল চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ
করে। এটি সাধারণত নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, চুল পড়া রোধ করে, চুলের
ঘনত্ব আয়তন বৃদ্ধি করে, খুশকি ও চুলকানি দূর করে, চুলের অকালপক্ষতা রোধ
করে। রোজমেরি তেল স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ফলে চুলের ফলিক গুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি
পায়, যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকে কার্বনিক এসিড, যা
মাথার ত্বকের টিস্যুর ক্ষতি পূরণ করে এবং স্ক্যাল্পের স্নায়ু সচল রাখে। যা চুল পড়া রোধ করে। এছাড়াও, রোজমেরি তেলে অ্যান্টি
ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে, যা আমাদের মাথার ত্বকের
খুশকি এবং চুলকানি দূর করে।
তবে এ তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম আমাদের জানা দরকার। কারণ রোজমেরি তেল সরাসরি
মাথায় লাগানো উচিত নয়, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এ তেল ব্যবহারের নিয়ম
হলো: দুই থেকে তিন টেবিল চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে চার-পাঁচ
ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল মিশিয়ে চুলে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। এরপর আপনার
নিয়মিত ব্যবহারকৃত শ্যাম্পুর সাথে কয়েক ফোঁটা রোজ মেরে ওয়েল মিশিয়ে মাথা
ধুয়ে নিতে হবে। তবে রোজ মেরে তেল সাময়িক ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। এটি ব্যবহার
করার কারণে ত্বকের কোন ক্ষতি হলে সাথে সাথে এটি ব্যবহার বন্ধ করুন। যাদের ত্বক
সংবেদনশীল তারা এটি ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মেথি ও কালোজিরার ব্যবহার
বর্তমানে আমাদের সবার একটি কমন সমস্যা হল চুল পড়া।বিভিন্ন কারণে আমাদের চুল
পড়ার এ সমস্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। মেথি ও কালোজিরায় এমন কিছু উপকারী
উপাদান রয়েছে যা আমাদের চুল পড়া রোধ করে, চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল ঘন করে
এবং চুলকে উজ্জ্বল হতে সাহায্য করে। মেথিতে রয়েছে প্রোটিন এবং নিকোটিনিক
অ্যাসিড। যা চুলের অকালপক্কতা রোধ করে অর্থাৎ আমাদের কম বয়সে চুল পেকে
যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। মেথি ও কালোজিরা সারারাত ভিজিয়ে রেখে তা বেটে নিতে হবে।
তারপর এ প্যাকটি চুলে লাগালে চুল পড়া কমে যায় এবং চুল ঘন হয়।
এছাড়াও মেথিতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি
যা চুলের গোড়া মজবুত করে খুশকি দূর করে চুলকে সতেজ এবং উজ্জ্বল রাখতে
সহায়তা করে। এছাড়াও কালোজিরাতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন,
জিঙ্ক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, সি ইত্যাদি যা চুল পড়া রোধ
করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, খুশকি এবং মাথার চুলকানি দূর করে এবং
চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। মেথি এবং কালোজিরা একসাথে বেটে প্যাক
বানিয়ে চুলে লাগালে তা চুলের জন্য খুব উপকারী হিসেবে কাজ করে।
চুলের যত্নে অ্যালোভেরা জেল এর ব্যবহার
অ্যালোভেরা এমন একটি উপাদান যা চুলের জন্য প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
অ্যালোভেরা হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ যা প্রাচীনকাল থেকে চুল এবং ত্বকের যত্নে
মানুষ ব্যবহার করে আসছে। অ্যালোভেরা তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যেমন
ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো এসিড, ক্যালসিয়াম, প্রটিয়ালাইটিক এনজাইম,
অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ইত্যাদি যা মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর
করে। চুলে অ্যালোভেরা ব্যবহারে চুলের স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে। ফলে
চুলের ফলিকল শক্ত হয় যার কারণে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও খুশকি প্রতিরোধ
করে। চুলকে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে।
প্রথমে মাথার ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে হবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে হালকা
শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করতে পারবেন।
অ্যালোভেরা ও নারিকেল তেল একসাথে মিশিয়ে আপনার মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন,
রাতে রেখে সকালে তা ধুয়ে ফেলুন। প্রথমবার ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন।
অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো, চোখে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনের মত কাজ করে যা চুলের আদ্রতা ধরে রাখে এবং
চুলকে রুক্ষ ও ভঙ্গুর হওয়া থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত এলোভেরা ব্যবহার করলে চুল
হয় মজবুত উজ্জ্বল স্বাস্থ্যবান নরম এবং খুশকিমুক্ত।
চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। নতুন করে চুল গজানোর
জন্য পেঁয়াজের রস অত্যন্ত উপকারী। যারা চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন তারা
পেঁয়াজের রস মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি আপনার নতুন চুল
গজাতে সাহায্য করবে। পেঁয়াজের রসের মধ্যে রয়েছে সালফার নামক উপাদান যা চুলের
ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেঁয়াজের রস চুলের ফলিককে শক্ত ও মজবুত
করে, যার কারণে চুল পাতলা হওয়া কমাতে এবং চুল পড়ার সমস্যা সমাধান করে।
অনেকের পেঁয়াজের রসে এলার্জি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। যদি এমন সমস্যা
দেখা দেয় তাহলে পেঁয়াজের রস ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ
গ্রহণ করতে হবে।
চুলের যত্নে আমলকি
আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। ভিটামিন সি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
আমলকি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা চুলের যত্নের অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। এতে
রয়েছে প্রাকৃতিক ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান যা চুলের নানা সমস্যা দূর করে।
এছাড়াও আমলকি ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুল পড়া কমে, নতুন
চুল গজাতে সাহায্য করে। এছাড়াও আমলকি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে
চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে এবং চুল দ্রুত এবং স্বাভাবিকভাবে লম্বা হতে থাকে।
আমলকির প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুন মাথার ত্বকের খুশকি ও চুলকানি দূর
করে। এতে মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে, চুল হয় স্বাস্থ্যবান। আমলকি চুলের গোড়ায় প্রাকৃতিক
শক্তি যোগায় ফলে চুল সহজে ভাঙ্গে না এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে।
ডিমের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট
চুলের প্রধান উপাদান হলো ক্যারাটির নামক প্রোটিন। মাসে দুইবার ডিমের কুসুম ও অলিভ
অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগান। কেটে চুলের ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, চুলের গোড়া
মজবুত করে, চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও ডিমে রয়েছে বায়োটিন,
ভিটামিন ও ফ্যাটি এসিড। যা চুল পড়া কমায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুল পুনরুদ্ধার করতে
সাহায্য করে। এছাড়াও এটি চুলের ফাটা রোধ করে এবং চুলকে শক্ত করে। চুলে ডিমের
ব্যবহারের ফলে চুল পড়া কমে,, চুল মজবুতক ঘন করে, চুলে প্রাকৃতিক সাইন আনে, চুল
পুনরুদ্ধার করে, চুল দ্রুত লম্বা হতে সহায়তা করে।
চুলে ডিমের ব্যবহার পদ্ধতি
লাগাতে হবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং তারপর
হালকা শ্যাম্পু করতে হবে শ্যাম্পু করার পর ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে যাদের
চুল একটু ড্রাই এবং রুক্ষ তাদেরকে ডিমের সাথে অলিভ অয়েল যোগ করে চুলে ব্যবহার
করতে হবে তাহলে চুল হবে নরম, ময়শ্চারাইজড এবং শাইনি। যাদের চুল পড়া ও খুশকির
সমস্যা রয়েছে ডিমের সাথে তারা তারা ডিমের সাথে টক দই মিশিয়ে চুলে ব্যবহার
করতে পারেন। এতে মাতার স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে এবং চুল পড়া কমায়। যাদের চুল অনেক তৈলাক্ত তারা
ডিমের সাদা অংশের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন, এতে অনেক উপকার
পাওয়া যায়।
পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাদ্য
পর্যাপ্ত পানি
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা এবং শোষণ খাদ্য আমাদের শরীরের জন্য ঠিক যতটা
প্রয়োজনীয় আমাদের চুলের জন্য ঠিক ততটাই প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান
এবং সুষম খাদ্য গ্রহণে চুলের শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া রোধ করে, চুল পড়া রোধ
করে, চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে, চুলে প্রাকৃতিক সাইন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য
করে। আমাদের চুলের গোড়ার সুস্থ থাকতে শরীরের ভেতর থেকে আদ্রতা দরকার পর্যাপ্ত
পরিমাণ পানি না পান করলে আমাদের চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পানি
আমাদের মাথার স্ক্যাল্প হাইড্রেট রাখে, চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছায়, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, খুশকি
কমাতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
সুষম খাদ্য
শরীরে প্রয়োজনে পুষ্টির ঘাটতি হলে আমাদের চুল দুর্বল হয়ে যেতে থাকে। চুলের
গোড়া দুর্বল হয়ে গেলে আমাদের চুল পড়ার সমস্যা শুরু হয়ে যায়। এজন্য আমাদের
প্রয়োজন সুষম খাদ্যের। সুষম খাদ্য আমাদের চুলকে মজবুত করে, দ্রুত বাড়তে সাহায্য
করে, চুল পড়া কমায়, চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন সুষম
খাবার গ্রহণ করতে হবে যেমন: ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দই, দুধ, ডাল, ছোলা, পালং
শাক, কচু শাক, লাল শাক, খেজুর, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, লেবু, কমলা, পেয়ারা,
বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, অলিভ অয়েল, ইলিশ মাছ ইত্যাদি। এগুলোতে রয়েছে প্রোটিন,
আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই। যা আমাদের চুলকে শক্তি যোগাতে, চুলের
পড়া রোধ করতে, স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে, চুলের গোড়া মজবুত করতে, চুলের শাইন
আনতে, চুল ঘন করতে সাহায্য করে।
চুলের যত্নে টক দই এর সঠিক ব্যবহার
টক দই হচ্ছে আমাদের চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘরোয়া উপাদান। যা
চুলের জন্য প্রাকৃতিক, কার্যকর এবং নিরাপদ। টক দইয়ে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন
বি ৫, জিঙ্ক ও প্রোবায়োটিক যা চুলের জন্য খুবই উপকারী। তবে অবশ্যই আমাদেরকে
টাটকা বা তাজা দই ব্যবহার করতে হবে।দইয়ে থাকা প্রোটিন চুলের গোড়া মজবুত করে, প্রবায়োটিকসক্যালপের ব্যাকটেরিয়া
নিয়ন্ত্রণ করে, শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে দুই প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ, করে
স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, চুলে প্রাকৃতিকভাবে শাইন আনে।
যাদের চুল শুষ্ক ও রুক্ষ তাদের জন্য টক দই স্ক্যাল্পের উপরে চুলে ভালোভাবে লাগাতে হবে। ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে কুশম গরম পানি ও
হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফলে চুল হবে নরম, মসৃণ, ও উজ্জ্বল।
যাদের চুল পড়ার বেশি সমস্যা রয়েছে তারা দইয়ের সাথে নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে
ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে চুল পড়া ধীরে ধীরে কমবে
এবং চুল হবে শক্ত। খুশকি ও স্ক্যাল্পে চুলকানির সমস্যা থাকলে দইয়ের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে
হবে এতে খুশকি এবং চুলকানি দূর হয়ে যাবে। চুল দুর্বল এবং ভঙ্গুর হলে দইয়ের
সাথে ডিম মিশিয়ে চুলে লাগাতে হবে এবং ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলতে হবে। ফলে চুল হবে ঘন এবং শক্তিশালী।
চুলের যত্নে স্ক্যাল্প ম্যাসাজের গুরুত্ব
মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজের
ফলে মাথার ত্বকের যে কোষগুলো থাকে তাতে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। এতে পুষ্টি এবং
অক্সিজেন সরবরাহ করতে থাকে। যার ফলে চুল হয় মজবুত এবং শক্তিশালী। একটি চুল
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজের ফলে চুল পড়া রোধ করা যেতে পারে, চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে
পারে। স্ক্যাল্প ম্যাসাজের
মাথার ত্বক থাকে সুস্থ। প্রতিদিন নিয়ম করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন। অতিরিক্ত উপকার লাভের জন্য ম্যাসাজের সময়
রোজমেরী বা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। যা চুলের জন্য হবে আরও বেশি
উপকারী। স্ক্যাল্প ম্যাসাজ সবার জন্যই খুবই উপকারী কিন্তু কারো চুল পড়া সমস্যা
বেশি থাকলে ম্যাসাজ না করাই ভালো। এতে চুল পড়ার সমস্যা আরো বেড়ে যেতে
পারে। এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন
শেষ কিছু কথা: ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০ টি টিপস
একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘরোয়া
পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার কার্যকরী ১০ টি টিপস সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা
করা হয়েছে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়া অনেক সহজ এবং
কার্যকরী। উপরের আলোচনায় আমলকি, টক দ,ই রোজমেরি তেল, পেঁয়াজের রস, পর্যাপ্ত
পানি ও সুষম খাদ্য, ডিম, নারিকেল তেল সহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে এগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই কিভাবে আমরা আমাদের চুলের যত্ন নিতে
পারি তা ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উপরোক্ত ১০ টি টিপসের মধ্যে পেঁয়াজের
রস ব্যবহার করে আমাদের চুলের যত্ন নেয়ার পদ্ধতিটি আমার কাছে সবথেকে বেশি
কার্যকরী মনে হয়েছে।
আশা করছি এ আর্টিকেলটি আপনাদের চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন
করবে। কারণ এখানে বেশ কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে যা অনুসরণ করার
মাধ্যমে আপনি আপনার চুলের সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। উপরোক্ত ঘরোয়া
পদ্ধতিগুলো আপনার চুলের সুস্বাস্থ্য এবং উন্নতির জন্য হতে পারে অনেক কার্যকরী।
রোদ, ধুলাবালি এবং পলিউশন থেকে চুলের সুরক্ষার জন্য আমাদেরকে চুলের যত্ন নিতে
হবে। আমাদের উচিত চুলকে গরম পানি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কেমিক্যাল থেকে দূরে রাখা
এছাড়াও বাহিরে গেলে টুপি অথবা স্কার্ফ ব্যবহার করা, এতে আমাদের চুল অনেকটাই
সুরক্ষিত থাকবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে এসব টিপস মেনে চুলের যত্ন নিলে আমাদের চুল
হয়ে উঠবে সুস্থ, মসৃণ এবং সুন্দর।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url